কয়েকজন সৃজনশীল মানুষের গল্প (পাঠ ১১)

কর্মেই আনন্দ - কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

583

এরই মধ্যে আমরা সৃজনশীলতা সম্পর্কে জেনেছি। এই পাঠে আমরা জানব কয়েকজন সৃজনশীল মানুষের গল্প। যদিও প্রতিটি মানুষই কম-বেশি সৃজনশীল, তবুও কিছু কিছু মানুষ রয়েছেন, যাদের সৃজনশীলতা পৃথিবী বিখ্যাত। তেমন কয়েকজন মানুষের গল্প আমরা এই পাঠে জানব।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

গল্প বা কবিতা লেখাও এক ধরনের সৃজনশীলতা। রবীন্দ্রনাথ আমাদের নোবেল বিজয়ী কবি। তিনি মানুষের জীবন, মন আর প্রকৃতি নিয়ে গল্প-কবিতা-নাটক-উপন্যাস ও অসংখ্য গান লিখেছেন। গানে সুরও দিয়েছেন। তিনি ছবিও আঁকতেন। তাঁর সে লেখায়, কথার বুননে, শব্দ চয়নে, বাক্যের গাঁথুনিতে সবার উপরে জীবন ও দর্শন নিয়ে ভাবনা-চিন্তার প্রকাশে আমরা তাঁর সৃজনশীলতার পরিচয় পাই।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন

রং আর তুলিতে যার সৃজনশীলতা হয়ে উঠেছিল বাস্তব, তিনি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন আমরা সবাই দেখি, আমরা সবাই সেই জীবনযাপনের মধ্য দিয়েই যাই; তবু আমাদের দেখা জয়নুল আবেদিনের মতো হয় না। সবার পক্ষে সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে যা আঁকতে চায় তা যথার্থভাবে আঁকা সম্ভব হয় না। সম্ভব হয় তাদের পক্ষে যারা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের মত সৃজনশীল।

টমাস আলভা এডিসন

খুব ছোটোবেলায় এডিসনকে স্কুলে খুব করে বকা খেতে হয়েছিল পড়া না পারার কারণে। কিন্তু এই এডিসনই সবার বিচারে শতাব্দীর অন্যতম সৃজনশীল মানুষ। হাজারের বেশি আবিষ্কারের রেকর্ড রয়েছে তার। এই যে আমরা বিদ্যুৎ বাতির আলোয় রাতের অন্ধকারেও চারপাশ উজ্জ্বল দেখি, সেটা এই এডিসনের আবিষ্কার। আজকালকার বহুল ব্যবহৃত ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র যেমন ক্যাসেট প্লেয়ার কিংবা সিডি প্লেয়ার আবিষ্কার হওয়ার পূর্বে মানুষ যে গ্রামোফোনে গান শুনত, সেই গ্রামোফোনও এডিসনের আবিষ্কার। এ ছাড়া তিনি টেলিগ্রাফও আবিষ্কার করেন।

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি

১৪৫২ সালের ১৫ এপ্রিল ইতালির কালজয়ী চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ফ্লোরেন্সের অদূরবর্তী ভিঞ্চি নগরের একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম লিওনার্দো দি সের পিয়েরো দা ভিঞ্চি। খুব অল্প বয়সে তাঁর শিল্প-মেধার বিকাশ ঘটে। তাঁর বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে মোনালিসা, দ্য লাস্ট সাপার, ম্যাডোনা অন্যতম। অবশ্য বহুমুখী প্রতিভাধর লিওনার্দো দা ভিঞ্চির অন্যান্য পরিচয়ও রয়েছে। তিনি একাধারে ভাস্কর, স্থপতি, সংগীতজ্ঞ, সমরযন্ত্রশিল্পী এবং বিংশ শতাব্দীর বহু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের স্রষ্টা। আমরা যে আকাশে হেলিকপ্টার উড়তে দেখি, আকাশে পাখির ওড়া দেখে তাঁর নকশা তিনিই প্রথম করেছিলেন। লিওনার্দো একধরনের প্লাস্টিক ও ক্যামেরা তৈরি করেছিলেন। কন্টাক্ট লেন্স এবং স্টিম ইঞ্জিন নিয়ে লিখে গেছেন, আকাশ কেন নীল তা ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি এই সব করতে পেরেছিলেন তাঁর চমৎকার সৃজনশীলতার গুণে। তাঁর জীবন হল সৃজনশীলতার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। লিওনার্দো সবসময় আচ্ছন্ন ছিলেন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে এবং সেই সাথে পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষণের মাধ্যমে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে চাইতেন।

আর এর সুস্পষ্ট ছাপ রয়ে গেছে তার লেখালেখিতেও। খেয়ালী রাজকুমারের মতো এলোমোলো ভাবে নোটবুকের পৃষ্ঠায় ভিঞ্চি তার চিন্তাভাবনা লিখে রেখে গেছেন। আলোক বিজ্ঞানের উপর কোনো লেখার পাশেই হয়ত আঁকা হয়েছে কোনো মুখের স্কেচ, বা কোনো নির্দিষ্ট রং কিভাবে তৈরি করা যাবে তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা বা কোনো নির্দিষ্ট রোগ থেকে কীভাবে মুক্তি পাওয়া যাবে তার উপায়।

দলগত কাজ
সৃজনশীল আরো কয়েকজন মানুষের একটি তালিকা (কাজের বর্ণনাসহ) তৈরি করে উপস্থাপন কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...